ঘর পোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়, তেমনি সংবাদে প্রকাশ চীনের ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতবর্ষের ও বিশ্বের নানা দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এক শ্রেণীর পশ্চিমী সংবাদ মাধ্যম ও তাদের অনুসরণ করে এই উপমহাদেশের মূলস্রোতের সংবাদ মাধ্যমগুলো ক্রমাগত চীনের করোনা সংক্রমণের ঘটনা নিয়ে যখন বার বার প্রচার করছে, তখন কিন্তু চীনের সংবাদ মাধ্যম বা সরকার এই ব্যাপারে কোনো উচ্চ বাচ্য করছে না। চীনের করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কবলে কি এবার ভারত ও বিশ্ব আবার ফাঁসতে চলেছে? আবার কি দেশজোড়া লকডাউন ও আর্থিক দুর্দশার দিকে বিভিন্ন দেশ এগিয়ে চলেছে? আবার কি ২০২১ এর এপ্রিল-মে মাসের মতন মৃত্যু মিছিল দেখবে ভারতের মতন অর্ধবিকশিত দেশ? এই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যে আমাদের তথ্যের উপর ও ঘটনাবলীর উপর নজর দিতে হবে। 

চীনের বর্তমান করোনা সঙ্কটের হালহকিকত 

চীনের করোনা সংক্রমণ নিয়ে ভারতের ও পশ্চিমী সংবাদ মাধ্যমে যে ভাবে প্রচার করা হচ্ছে এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। চীনের উহান প্রদেশের থেকে নোভেল করোনা ভাইরাসের (কোভিড ১৯) এর উৎপত্তি ডিসেম্বর ২০১৯ এ হলেও, ২০২০ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি সংক্রমণের মাত্রা চরমে ওঠে ৩১,৩৩৩টি নতুন সংক্রমণের ঘটনায়। এর পর থেকে চীন বজ্র কঠিন করোনা নিয়ন্ত্রণ নীতি ব্যবহার করে ও অন্যদিকে জনকল্যাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কে রাষ্ট্রীয় মদদে আর্থিক ও সামাজিক ভাবে সহায়তা প্রদান করে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত রাখে। 

এর পরে ডিসেম্বর ২০২০ নাগাদ চীন মোটামুটি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কাটিয়ে ওঠে। তার আগেই দেশ জোড়া লকডাউন শিথিল করা হলেও নানা জায়গায় কন্টেনমেন্ট জোন তৈরি করে করোনা সংক্রমণ রোখার পলিসি তৈরি হয়। ২০২১ সাল থেকে চীনের করোনা টিকাকরণ শুরু হওয়ার পরে ১৭ই মে থেকে ৪ঠা অক্টোবর অবধি একটা নতুন ঢেউ আসে। তবে সেই সময়ে সর্বাধিক সংক্রমণের ঘটনা ঘটে ২৪শে মে, যখন ৪,০৫১টি সংক্রমণের ঘটনা ধরা পরে আর মৃত্যু হয় ৮২ জনের। তবে এই পর্বে সর্বাধিক মৃত্যু হয় ১৮৭টি, যা ৭ই জুন ২০২১ এ হয়। এর পরে চীনের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা কমতে থাকে। ৪ঠা অক্টোবর ২০২১ এ ২৫১টি কনফার্মড করোনা সংক্রমণের ঘটনা ধরা পরে ও তিন জনের মৃত্যু হয়। তার পর থেকে চীনের করোনা সংক্রমণের গ্রাফ নিম্নগামী থাকে বেশ কয়েক মাস। 

ডিসেম্বর ২০২১ থেকে করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ শুরু হয়। ২০শে ডিসেম্বর ২০২১ এ চীনে ৯৪৭টি করোনা সংক্রমণের ঘটনা ধরা পরে ও একজনের মৃত্যু হয়। কিন্তু এর পর থেকে সংক্রমণ কমেনি, বরং বেড়ে চলে। ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২২ এ ৭,৫৭১টি নতুন সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে, মৃত্যু হয় ছয় জনের। কিন্তু এর পরের সপ্তাহে, ২৬,৩২৯টি কেস ধরা পড়ে ও এক সপ্তাহে মারা যান ৫৮জন। সেখান থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ২৯৭,৫২৩টি করোনা সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে ও মারা যান ১,১৯৭জন। মার্চ মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে যথাক্রমে ১৭৪,৭১৬ ও ৯১,২০০টি করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে, কিন্তু এই দুই সপ্তাহে যথাক্রমে মারা যান ১,৯৫৫ ও ১,৯২১ জন মানুষ।  

যদিও চলতি বছরের এপ্রিলে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ চীনে তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পায়, কিন্তু মে মাসে আবার করোনা সংক্রমণের ঘটনা ও মৃত্যু দুই বেড়ে যায়। মে মাসের তৃতীয় ও শেষ সপ্তাহে যথাক্রমে ধরা পড়ে ৫৭৬,৩৬৭টি ও ৫২৮,৪৩২টি সংক্রমণের ঘটনা কিন্তু মৃত্যুর হার মার্চ মাসের তুলনায় কম থাকে –– মারা যান যথাক্রমে ৫৭৮ ও ৯১০ জন। মার্চের পরে জুন মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা হাজারের উপরে উঠে যায়। এর পর থেকে সেটা নিম্নগামী থাকে।  

এর পরে অক্টোবর ২০২২ এর প্রথম দুই সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের ঘটনা তীব্র হয় যখন যথাক্রমে ৩৩৩,৮২৩টি ও ৩২৮,৯১০টি সংক্রমণের ঘটনা ধরা পরে আর তখন এই দুই সপ্তাহে মৃত্যু হয় ৪১২ ও ৪৩১ জনের। কিন্তু এর পর থেকে সংক্রমণের ঘটনা নিম্নগামী থেকেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১৪৯,৬৭৪টি করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে ও তার পরের সপ্তাহে তা নেমে আসে ১৪৭,৬৪৩টি সংক্রমণের ঘটনায়। কিন্তু এই সময়ে মারা যান ৩৩৭ ও ৪১৮জন। তবে শেষ পরিসংখ্যান হিসাবে, ডিসেম্বরের চলতি সপ্তাহে ধরা পড়েছে ৬১,২৯৩টি করোনা সংক্রমণ আর মৃত্যু হয়েছে ১৯৬ জনের। 

আশ্চর্য ঘটনা হল যে মার্চ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে যখন চীনে ৩,৮৭৬ জন মারা যান তখন কিন্তু বিশ্বের তাবড় তাবড় সংবাদ মাধ্যম চীনের করোনা সঙ্কট নিয়ে গলা ফাটায়নি বা নানা দেশের সরকার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। বরং ভারতের মতন দেশে মার্চ মাসের পর থেকে কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রক করোনা সংক্রমণের জন্যে মাস্ক পরা কে আর বাধ্যতামূলক রাখেনি। নানা জায়গায় সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ সহ নানা ধরণের করোনা রোধের নিয়মাবলী ত্যাগ করা হয়। তাহলে এই সময়ে আবার কী হল যে সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করা শুরু করেছে?

করোনার তথ্য চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেন

চীনের করোনা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বের রাজনীতি  

চীনের বজ্র কঠিন “জিরো কোভিড” নীতি জনগণ কে সজাগ করে রেখেছিল করোনা সংক্রমণ নিয়ে। বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রতিটি বাড়িতে প্রত্যেকের করোনা টেস্ট করানো হত নিয়ম করে। এ ছাড়াও সামান্য উপসর্গ দেখা দিলে একজন ব্যক্তিকে স্থানীয় কোভিড সেন্টারে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তদারকি ও চিকিৎসার জন্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভর্তি করা হত ও সেই অঞ্চলে কন্টেনমেন্ট নীতি প্রয়োগ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হত। 

অথচ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বিংশতম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় এই বছরের অক্টোবর মাসে। তাতে সিপিসির পুনঃনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও দেশের জাতীয় গণ কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চীনের সংগ্রামের প্রশংসা করেন। এর পরেই, নভেম্বর মাস থেকে চীনের বিভিন্ন শহরে কয়েক হাজার মানুষ “জিরো কোভিড” নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। সেই নিয়ে পশ্চিমী সংবাদ মাধ্যম ও মার্কিন সরকার খুব হৈচৈ শুরু করে দেয় চীনে করোনা দমনের নামে মানবধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে। এর পরেই, আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে সিপিসি ও চীনা সরকার “জিরো কোভিড” নীতি প্রত্যাহার করে।  

এর পর থেকে চীনে আর জনগণ কে বাধ্যতামূলক ভাবে করোনা পরীক্ষা করাতে হয় না, কারুর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে তাঁর অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা হয় না এবং সামান্য উপসর্গ থাকলে কাউকে আগের মতন সরকারি নিভৃতাবাসে গিয়ে থাকতে হয় না। এই সব পরিবর্তনের ফলে চীনের সরকার যেমন আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়েছে তেমনি নিজের অর্থনীতি কে চাঙ্গা করার রাস্তাও বের করেছে। যদিও পশ্চিমী দেশগুলো চীনের “জিরো কোভিড” নীতি কে সমালোচনা করেছে চিরকাল, তারা কিন্তু এর কার্যকরিতা কে বারবার স্বীকার করেছে।  

কিন্তু বর্তমানে চীন যখন বিধিনিষেধ শিথিল করেছে তখন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ নানা দেশে তীব্র আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড ড্যাশবোর্ড দেখাচ্ছে যে গত এক মাসে জাপানে ৩৪.৩৯ লক্ষ মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আর মারা গেছেন ৫,২৪৮ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬.৬৬ লক্ষ মানুষ আর মারা গেছেন ১,৩৮৫ জন। এ ছাড়া, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও মূলস্রোতের সংবাদ মাধ্যমগুলো নিরন্তর চীনের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে ও আশঙ্কা প্রকাশ করছে, সেই মার্কিন মুলুকে ১৫.৯৭ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে আর মৃত্যু হয়েছে ১০,২০৭ জনের, যাঁদের বেশির ভাগই আর্থিক সঙ্কটের কারণে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। 

ফলে চীনের থেকে বেশি আক্রান্ত মানুষের মিছিল যেখানে জাপান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, সেখানে সেই সব দেশ ও তাঁদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে ভারতীয় ও পশ্চিমী সংবাদ মাধ্যম ও সরকারগুলো যখন বারবার চীনের ঘটনা কে কেন্দ্র করে উদ্বেগ জানাচ্ছে তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে এর মাধ্যমে এক ঢিলে দুইয়ের বদলে তিনটি পাখি মারার চেষ্টা চলছে।  

প্রথমতঃ বিশ্বের নানা দেশে করোনা ভাইরাসের টিকাকরণের ফলে যে কোনো ভাবেই করোনা সংক্রমণ রাখার ক্ষেত্রে সাফল্য আসেনি সেই নিয়ে কোনো তর্কের সম্ভাবনা থাকে না যদি সমালোচনার বর্শামুখ চীনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়।  

দ্বিতীয়তঃ জনমানসে করোনা ভীতি ও আর্থিক সঙ্কটের ভীতি জাগ্রত করার জন্যে চীন কে ব্যবহার করা হচ্ছে বিনা অপরাধে দণ্ডিত অপরাধীর মতন। কাল যদি সরকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার নামে লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা জারি করে, বা নানা জায়গায় যদি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা উলঙ্গ হয়ে সামনে আসে, তাহলে চীন কে দোষ দিয়ে নিজেদের অপকর্ম চেপে রাখতে পারবে নানা দেশের সরকার।  

তৃতীয়তঃ চীন কে করোনা উত্থানের জন্যে দায়ী করলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে চীন ও রাশিয়া বিরোধী ভূ-রাজনৈতিক জোট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী জোট তৈরি করতে চাইছে, তাতে তারা অনেক দেশ কে ভয় দেখিয়ে বা লোভ দেখিয়ে সামিল করতে পারবে সহজে, আর করোনার “তথ্য গোপন” করার দোষে চীন কে অভিযুক্ত করায় সেই কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।  

করোনা নিয়ে বাঁচা ও রাজনীতি করা 

চীন ৩৪৬.৫১ কোটি টিকাকরণ করেছে, বিশেষ করে নবীন, শ্রমজীবী শ্রেণীর মানুষদের, যাতে তারা নির্বিঘ্নে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। তবুও চীনের সাবধানের মার নেই কারণ সেই দেশে ২৬.৭ কোটি ষাটোর্ধ প্রৌঢ় ও বৃদ্ধেরা আছেন যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এহেন পরিস্থিতিতে নিজের অর্থনীতি কে সচল রেখে ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীন যখন করোনা বিধিনিষেধ শিথিল করছে তখন এটা প্রমাণ হচ্ছে যে শুধুই বিধিনিষেধের কারণে করোনা সংক্রমণ একদিন এমনিই শূন্য হয়ে যাবে না কারণ এটি একটি নভেল ভাইরাস ও মিউটেট করতে করতে তার রূপ পরিবর্তন হয়ে চলেছে ক্রমাগত ও নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট হিসাবে তা মানব সমাজে আত্মপ্রকাশ করবে ও সংক্রমণ ঘটাবে।  

করোনা ভাইরাস মানব দেহে যেহেতু কোভিড-১৯ হিসাবে একবার প্রবেশ করেছিল তাই মানবসমাজে তা দীর্ঘদিন থাকবে। ফলে এই ভাইরাসের উপস্থিতি মেনে মানুষ কে নিজেদের জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে ও সাবধানে চলতে হবে। এর থেকে বাঁচার রাস্তা হল সাবধানে চলা, বৃদ্ধ ও শিশুদের বিশেষ ভাবে সাবধানে রাখা যাতে তাঁরা সংক্রমিত না হন, নিজস্ব জীবনে কিছু পরিবর্তন এনে পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া ও দরকার পড়লে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া।  

কিন্তু এই সবের পরোয়া না করে একদিকে যদি সরকার উৎসব-মোচ্ছব আর নির্বাচনী রাজনীতির জন্যে বিশাল ভিড় করতে দেয়, বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে নববর্ষ বা নির্বাচনের জনসভায় অসংখ্য মানুষের সমাবেশ হতে দেয়, আর ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির জন্যে চীন কে দোষ দেয়, তাহলে বুঝতে হবে এর পিছনে চরম ধৃষ্টতা আছে।

এই প্রবন্ধটি কি আপনার ভাল লেগেছে?

তাহলে মাত্র ৫০০ ভারতীয় টাকার থেকে শুরু করে আপনার সাধ্য মতন এই ব্লগটি কে সহযোগিতা করুন

যেহেতু আমরা FCRA-তে পঞ্জীকৃত নই, অতএব ভারতের বাইরের থেকে সহযোগিতা আমাদের পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA


পিপলস রিভিউ বাংলা – People's Review Bangla