বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক মমতার, কিন্তু বাম খুঁজছে ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াতে রাজি নয় পশ্চিমবঙ্গের বামেরা। বরং, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন [সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন] স্পষ্ট জানিয়ে দিল—দুর্নীতি, অপশাসন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জন্য জনসমক্ষে দায় স্বীকার না করলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর সঙ্গে কোনো যৌথ আন্দোলনের প্রশ্নই ওঠে না।
রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সদ্য প্রাক্তন হওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনের নামে “প্রহসন” হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন। বাম ও অতি-বাম শক্তিকেও সেই আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কিন্তু বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর যখন আন্তর্জাতিক দক্ষিণপন্থী মহলের একাংশ — মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে ব্রিটিশ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান পর্যন্ত — প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে, তখন রাজ্যের বামপন্থী শিবিরের সামনে প্রশ্নটা শুধু বিজেপি-বিরোধিতার নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেস আমলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারেরও।
বামেদের অভিযোগ, নিজের শাসনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নিজেকে রাজ্যের একমাত্র বিজেপি-বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও, বাস্তবে তাঁর দল বিজেপির উত্থান ঠেকাতে পারেনি। বরং দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগে তাঁর সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বামফ্রন্টের সমর্থনে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করা সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার আগে তাঁর রাজনৈতিক আত্মসমীক্ষা জরুরি।
পিপলস রিভিউ বাংলার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত বামফ্রন্টের শেষের দিককার যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম, সেখানে যে কৃষকের আন্দোলনগুলো ছিল, সেটাকেই মোটামুটি আত্মস্থ করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এবং তাঁর ১৫ বছরের যে শাসন ইতিহাস, সেটাকে আমরা অপশাসন হিসেবে, বিশেষ করে তাঁর তৃতীয় পর্বের যে সময়কাল, শাসনকাল, সেটাকে আমরা অপশাসন বলেছি। কারণ তাঁর আপাদমস্তক দুর্নীতি এবং সামাজিক সন্ত্রাস, এবং… এই গোটা ব্যাপারটাকে আমরা একটা অপশাসন বলেছিলাম।”
“ক্ষমা চাইতে হবে”
মজুমদারের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে বামেদের দুটি সমান্তরাল অবস্থান। একদিকে বিজেপিকে “ফ্যাসিবাদী শক্তি” হিসেবে দেখার প্রশ্ন, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে উপেক্ষা না করার প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, যদিও বামেরা নির্বাচনে সফল হয়নি, তারা অনেক আগেই বিজেপিকে “ফ্যাসিবাদী শক্তি” হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল — উভয়ের বিরুদ্ধেই রাজনৈতিক লড়াই চালিয়েছে।
“আজকে হঠাৎ ক্ষমতার থেকে সরে যেতে হয়েছে তাঁকে, এবং আজকে একটা নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, যেটা সম্পূর্ণ একটা ফ্যাসিবাদী সরকার, তাই নিশ্চয়ই, একদম টেক্সটবুকের জায়গা থেকেও বাম এবং গণতান্ত্রিক শক্তিকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেটা নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু তার আগে, বন্দ্যোপাধ্যায়কে তো অন্তত জনসমক্ষে স্বীকার করতে হবে যে তিনি যা যা করেছেন…”
এরপরই তিনি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক হত্যাকাণ্ড, পঞ্চায়েত ব্যবস্থার অবক্ষয় ও “সিন্ডিকেট রাজ”-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
“এই যে ২৬,০০০ শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে দুর্নীতির কারণে, শিক্ষামন্ত্রীকে, খাদ্যমন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়েছে, এবং আরজিকর হাসপাতালের তরুণী হত্যার বিচার হলো না… একটা লুটপাটের সিন্ডিকেট রাজ তৈরি করেছেন… তাহলে এই যে অপশাসন, জনসমক্ষে সেটার জন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করা উচিত,” দাবি করেন মজুমদার।
তাঁর প্রশ্ন, “তিনি একটা আহ্বান রাখলেই বাম এবং অন্যান্য শক্তিরা তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াবে—তিনি কী করে সেটা মনে করছেন?”
মজুমদারের মতে, বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের প্রথম শর্তই হলো প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার।
“প্রাথমিক শর্ত তো এটা হতেই হবে যে তাঁকে স্বীকার করতে হবে যে আমাদের অন্যায় হয়েছে, ভুল হয়েছে, তার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাটাও তো খুব জরুরি,” তিনি বলেন।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম থেকে আরজি কর
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি টেনে এনে মজুমদার স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধেও সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন একই ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল।
“বামফ্রন্ট যখন ২০১১-এ চলে গেল, আমরা বলেছিলাম যে অন্ততপক্ষে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে এই যে শিল্পায়নের নামে যে হাজার হাজার একর জমি… সেটার কোনো ভুল স্বীকার তো বামফ্রন্ট সরকার করেনি,” তিনি বলেন।
প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সময় সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন বামফ্রন্ট সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চেই অবস্থান করেছিল।
এই ঐতিহাসিক তুলনার মাধ্যমে মজুমদার বোঝাতে চান, ক্ষমতাসীন শক্তির বিরুদ্ধে বামেদের বিরোধিতা কেবল নির্বাচনী সমীকরণের প্রশ্ন নয়; বরং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও।
বিজেপির উত্থান: শুধু “ষড়যন্ত্র” নয়, ছিল জনরোষও
বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছিল সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরু হওয়ার পরও দলটি সেটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বিপজ্জনক বলে তুলে ধরেছিল।
তবু বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের ব্যাখ্যায় মজুমদার শুধু রাষ্ট্রীয় কারসাজি বা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের যুক্তিতেই থেমে থাকছেন না। তিনি স্বীকার করছেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল জনঅসন্তোষও এই ফলাফলের একটি বড় কারণ।
“সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ব্যবহার করে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে,” অভিযোগ করেন মজুমদার। তবে একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “একটা প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে খুব জোরালো ভাবেই ছিল। সেটাও একটা মস্ত বড় কারণ তার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার।”
তৃণমূল কি এখনও বিজেপি-বিরোধী বিশ্বাসযোগ্য শক্তি?
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল। কিন্তু বিজেপি-বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে দলটির বিশ্বাসযোগ্যতা এখনও প্রশ্নের মুখে বলেই মনে করছেন মজুমদার।
“এখনও অবধি তো নেই,” বলেন তিনি।
তাঁর মতে, তৃণমূলের রাজনৈতিক সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করেছিল নগদ অনুদানভিত্তিক কল্যাণনীতির উপর। কিন্তু সেই মডেলেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
“শুধুমাত্র ক্যাশ ট্রান্সফারে… মানুষ তো একটা জায়গায় গিয়ে স্যাচুরেটেড হয়ে যায় যে আমি ১,৫০০ টাকা পাচ্ছি সেটা আমার অধিকার, কিন্তু আমাকে যদি কেউ ৩,০০০ টাকা দেয় তাহলে আমি তাকেই ভোট দেব,” মন্তব্য করেন তিনি।
মজুমদারের অভিযোগ, বিজেপি বনাম তৃণমূলের দ্বিমেরুকৃত রাজনীতির ফলে বেকারত্ব, শ্রমিক অধিকার, মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষকদের সংকটের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলি আড়ালে চলে গিয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, শ্রম কোড, শ্রমঘণ্টা বৃদ্ধি বা কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদৌ ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন কি না।
“তিনি তো মুখে বলেছিলেন অনেক কিছু, এসআইআরের বিরোধিতা করব, করতে পারেননি। এই যে চার বছর ধরে ১০০ দিনের কাজটা বন্ধ থাকলো, সেখানে অবশ্যই আমরা বিজেপিকে বলবো ইচ্ছে করে তারা টাকা পাঠায়নি, তারা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তার একটা তো অংশ এটাও, যে সেই টাকাটা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, এটাও তো অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই,” মজুমদার জানান।
“এতগুলো ঘটনা যে ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে, আরজিকর হয়েছে, শিক্ষকদের চাকরি চলে গিয়েছে, আনিস খানের হত্যা হয়েছে, একটা সামাজিক সন্ত্রাসকে সম্পূর্ণভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মানুষের একটা আক্রোশ তৈরি হয়েছে। নিশ্চয়ই এসআইআর থেকে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণত, বিশেষ করে মোদী সরকার তারা নির্বাচন পদ্ধতির আর কিছু বাকি রাখেনি। মানে কোনো জনমতের প্রতিফলন আমরা বলছি তা নয়। কিন্তু তার একটা অংশে তো, বড় অংশই এই অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সিটাকে (প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা) তো আমরা অগ্রাহ্য করতে পারব না,” বলেন তিনি।
“২০০৬-এর ভূমিকায় ফেরা অসম্ভব”
এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতে গেলেও, ২০০৬ সালের বামেদের মতন ফল যেমন করতে পারেনি, তেমনি বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সেই সময়কার মতন খারাপ ফল করেনি।
বর্তমানে যখন বন্দ্যোপাধ্যায় আবার প্রধান বিরোধীর আসনে, এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের নেত্রী, তখন কি তাঁর প্রত্যাবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে মজুমদার ২০০৬ আর ২০২৬ এর পার্থক্য দেখান।
বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মজুমদার। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে আনেন ত্রিপুরা-র অভিজ্ঞতা।
ত্রিপুরায় তারা আসার পরেই কিন্তু সব চেয়ে আগে যে কাজটা করেছিল সেটা হচ্ছে যে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন তারা বন্ধ করে দিয়েছিল, এবং ৩,০০০-এর উপর শিক্ষকের চাকরি তারা খেয়ে নিয়েছিল। এবং আজকের দিনেও তারা বামপন্থী দলের পার্টি অফিসগুলো, শুধু সিপিআই (এম) নয়, আমাদেরও, জোর করে আমাদের অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং আগরতলাতে কোনো সরকার বিরোধী একটা পথসভা করতে গেলেও ওরা বাইক বাহিনী আছে একটা। তারা মিনিট ১৫-র মধ্যে ওই ঝটিকা বাহিনীর মতন, মানে নাৎসি ঝটিকা বাহিনীর মতন, তারা এসে মাইক-টাইক ভেঙে দিয়ে, পিটিয়ে-টিটিয়ে কোনো কিছু করতে দেয় না।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পশ্চিমবঙ্গেও ধীরে ধীরে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
তবে সেই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার ২০০৬ সালের মতো বিজেপি-বিরোধী গণআন্দোলনের মুখ হয়ে উঠতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান।
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার ২০০৬-এর ভূমিকায় ফিরে যাওয়াটা আমার মনে হয় সেটা অসম্ভব,” বলেন মজুমদার।
তাঁর মতে, আগামী দিনের গণআন্দোলনের দায়িত্ব মূলত বামপন্থীদের কাঁধেই বর্তাবে, যদিও সেই লড়াই “খুব সহজ হবে না”।
বিহার মডেল কি পশ্চিমবঙ্গে সম্ভব?
বিহারে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন বর্তমানে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি), জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যান্য বাম দলগুলির সঙ্গে বৃহত্তর বিজেপি-বিরোধী জোটের শরিক।
সেই রাজ্যেও একদা আরজেডি-র রাজত্বে বিরোধী শক্তি হিসাবে ছিল সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন। নকশালপন্থী দলটির ছাত্র নেতা চন্দ্রশেখর সহ অনেক কর্মী হত্যা হন সেই সময়ে। কিন্তু বর্তমানে বিজেপি-বিরোধিতার ক্ষেত্রে তারা শরিক।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে ভবিষ্যতে কি একই ধরনের সমীকরণ সম্ভব?
মজুমদারের উত্তর, পরিস্থিতি এক নয়।
তিনি বলেন, বিহারে বিজেপি এখনও একক শক্তি হিসেবে সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। সেখানে আঞ্চলিক মিত্রদের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরিস্থিতিকে আলাদা করে দিয়েছে।
“সামগ্রিকভাবে সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকারের উপরে বুলডোজার চালানোর প্রস্তুতি নেবে,” আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
একইসঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের সংখ্যালঘু-বিরোধী বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মজুমদার।
“তিনি লড়াইটা লড়ুন, তারপর দেখা যাবে”
তবু ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছেন না সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক।
তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান, তাহলে প্রথমে তাঁকেই বিরোধী রাজনীতির ময়দানে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করতে হবে।
“তিনি যখন বিরোধী পক্ষে আছেন, তাঁর এখনো বিধায়ক সংখ্যা আছে, সেই লড়াইটা তিনি লড়ুন। তারপরে দেখা যাবে,” বলেন মজুমদার।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের পর রাজ্যের বিরোধী রাজনীতি এখন শুধু বিজেপি-বিরোধিতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তৃণমূল আমলের উত্তরাধিকার, বামেদের পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক বিরোধিতার নতুন ভাষা — এই তিনের সংঘাতেই আগামী দিনের রাজনীতি গড়ে উঠতে পারে।

